আমান কটন ফাইব্রাস

আইপিওর ৭২ কোটি টাকা ব্যাংকে রেখে ৩৬ কোটি টাকার সুদ আয়

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ২০১৮ সালে পুঁজিবাজার থেকে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল আমান কটন ফাইব্রাস পিএলসি।

তবে আইপিওতে আসার আট বছর পরও কোম্পানিটি তহবিলের ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ ব্যয় করেছে। বাকি টাকা ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রেখে সুদ বাবদ এ পর্যন্ত কোম্পানিটি ৩৬ কোটি টাকা আয় করেছে। কোম্পানিটির আইপিও তহবিল ব্যবহার-সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, এ বছরের জানুয়ারি শেষে আইপিওর ৮০ কোটি টাকার মধ্যে ৮ কোটি ২৫ লাখ ১ হাজার ৬৬৩ টাকা ব্যয় করেছে আমান কটন। অব্যবহৃত রয়েছে ৭১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৭ টাকা। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি বাবদ ৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাবদ ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত এ দুই খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি কোম্পানিটি।

কোম্পানিটির আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নিরীক্ষক তার মতামতে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোম্পানিটির ব্যাংকে গচ্ছিত এফডিআরের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ টাকায়। এর মধ্যে ৭১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আসল ও সুদ আয় ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আইপিওর অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে এফডিআরের বিপরীতে আমান গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেয়া সিকিউরিটিজ আইনের পরিপন্থী। আইপিও তহবিলের অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এফডিআরের বিপরীতে নেয়া ঋণের লেনদেন স্থগিতের নির্দেশ দেয়। তবে কোম্পানিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ জারি করা আদেশে বিএসইসির ওই চিঠি-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কোম্পানিটি।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) আমান কটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ২১ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে আমান কটনের ইপিএস হয়েছে ২১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৬৩ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে আমান কটনের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৭৪ পয়সায়।

২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান কটনের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৮০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩। এর ৪৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১১ দশমিক ৪৪, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ১০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও